chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে ৪টি খুনে কিশোর-কিশোরীর নাম

চট্টগ্রামে গত  দুই সপ্তাহে  চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনে জড়িয়েছে বেশ কয়েকজন কিশোর ও কিশোরীর নাম। তারা সবাই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া। কয়েকজন বকে যাওয়া কিশোর। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে কিশোর-কিশোরীরা খুনের মতো নির্মম ও জঘন্যতম কাজকেও অপরাধবোধ মনে করছেনা।

কলেজ পড়ুয়ার হাতে মা খুন 

৩ জুন রাতে নেশা করার জন্য টাকা চেয়ে না পাওয়ায় নগরের পাহাড়তলীতে ছেলে ওমর ফারুকের (১৮) হাতে খুন হন মা রিনা আক্তার। নিহত রিনার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী করেন পাহাড়তলী থানার এসআই ইমাম হোসন জানান, রিনার শরীরে ৪৬টি কোপের আঘাত পাওয়া গেছে। মাথা ও কোমরের নিচ পর্যন্ত সবখানেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পাহাড়তলী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মঈনুর রহমান বলেন, পুলিশ হেফাজতে ওমর ফারুক দুপুরের খাবার খেয়েছেন। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি গর্ভধারিণী মাকে উপর্যুপরি কোপে খুন করেছেন। একেবারেই ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। ওমর ফারুক সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। মাকে খুনের পর তারমধ্যে কোন অনুসূচনা দেখা যায়নি।

কিশোরী পিটিয়ে মারলো মাকে 

বকে যাওয়া এক কিশোরীর হাতে ২১ মে পাহাড়তলীর দক্ষিণ কাট্টলী ছদু চৌধুরী রোডে খুন হন মা আনোয়ারা বেগম। যোগব্যায়াম ও ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পীর ভিডিও দেখে নাচে বাধা দেওয়ায় মাকে হত্যা করে ১৭ বছরের ওই কলেজছাত্রী। পরদিন ওই কিশোরীকে পুলিশ গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেফায়েত উল্লাহ জানান, ‘আনোয়ারা বেগমকে হত্যা করতে আগেই পরিকল্পনা করে নেয় মেয়েটি। নিয়মিত টিউশনি শেষে রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরলেও ২০ মে ওই কিশোরী রাত ১০টায় বাসায় ফেরে। ‘১০-১৫ মিনিট সে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়। এরপর মায়ের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে থাকা একটি কাঠের টুকরা দিয়ে মাথায় বারবার আঘাত করে। এতে আনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হন। এসময় তিনি মাটিতে বসে পড়েন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর মারা যান।
তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য, স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া খুনে জড়িত ওই কিশোরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে এবং কিছু বইপত্র পড়ে সমাজ ব্যবস্থার প্রতি তার এক ধরনের বিরাগ জন্মে।

স্কুল ছাত্রের হাতে বন্ধু খুন 

১ জুন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্কুলছাত্র আরিফ হোসেনকে (১৫) খুন করেছে সাকিবুল ইসলাম নামের ১৪ বছরের এক কিশোর। এ ঘটনায় পরদিন নিহত আরিফের পিতা জাগির হোসেন বাদি হয়ে মামলা করলে অভিযুক্ত ওই কিশোর ও তার মাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আরিফ শাকপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছহাব উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বেঙ্গুরা দেলোয়ার হোসেন সওদাগর বাড়ির বাসিন্দা মো. জাগির হোসেনের স্কুল পড়ুয়া ছেলে আরিফের সাথে স্থানীয় একটি বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক মিয়ার ছেলে মো. সাকিবুল ইসলামের (১৪) সাথে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে আরিফকে সাকিব ও সাকিবের মা সাখি আকতার (৩৫) মারধর করে। এতে আরিফ জ্ঞান হারিয়ে রাস্তার ধারে পড়েছিলো। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ওসি বলেন, পরদিন ওই কিশোরকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এক খুনে জড়ালো ১২ কিশোর

গত ৩ জুন নগরের  আগ্রাবাদে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. নুরুল আজিম নামের এক কিশোর খুন হন। নুরুল আজিমের বাড়ি চাঁদপুরে। সে চৌমুহনী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ
নয়ন, মোহাম্মদ সোহেল, মোহাম্মদ রনি ও মামুন নামের ৪ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহত আজিম চাড়িয়াপাড়া এলাকায় একা দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ১০ থেকে ১২ জন তরুণ এসে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয়।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল কাদের পাটোয়ারী বলেন, মূলত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোনো একসময় ভুক্তভোগী আটকদের মারধর করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে সেই ঘটনার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।

  • ফখ|চখ

 

এই বিভাগের আরও খবর