chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

রাতের আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার যেন ভূতের গলি

  • এ পর্যন্ত ৬টি দুর্ঘটনা

  • মুছে গেছে ট্রাফিক সতর্কীকরণ চিহ্নগুলো

  • রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিকের হাতে

চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার রাতে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এ যেন ভূতের গলি। জ্বলছে না দুই পাশের অধিকাংশ ল্যাম্পপোস্ট। রাত হলেই নেমে আসে অন্ধকার। ফলে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে অহরহ। ভোগান্তি পড়ছে জনসাধারণ।

২০১৩ সালে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলা হয়ে থাকে এটি চট্টগ্রামের বৃহত্তম সচল ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভারের মূল নাম আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। এটির মোট দৈর্ঘ্য ৬.৫ কিলোমিটার। এটি তৈরি করতে সরকারের মোট ব্যয় হয় ৬৯৬ কোটি টাকা। নির্মাণকারী দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ। পরে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য এটি সহ চট্টগ্রামের ৪টি ফ্লাইওভারের দায়িত্ব হস্থান্তর করা হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক)।

 

  • আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের জিইসি অংশে লাইটের ক্যাবল তার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দুই চোর ছবি- এম. ফয়সাল এলাহী।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহদ্দারহাট থেকে লালখানবাজার ফ্লাইওভার পর্যন্ত অনেক ল্যাম্পপোস্ট অকেজো হয়ে গেছে। দৃষ্টি নন্দন আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার পুরোটাই অন্ধকার ভূতের গলি মনে হয় এখন।

দুই নাম্বর গেট হতে যুক্ত হওয়া লুফ অংশের চিত্রও একই রকম। কোথাও এক -দুইটা কোথাও টানা পাঁচ -ছয়টা ল্যাম্পপোস্ট নষ্ট দেখা যায়

এই অবস্থায় অন্ধকারে গাড়ি চালানো ঝুকিপূর্ণ মনে করছেন অনেকে। সামনে বৃষ্টির সময় অন্ধকার থাকলে রাতের বেলায় আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কিশোর গ্যাং সদস্য ও ছিনতাইকারি চক্রের ভয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানিয়েছেন জনসাধারণ। এক সময় ফ্লাইওভারে টহল পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন দেখা যায়না বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে কথা হলে পাঁচলাইশ থানার ভা্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা চট্টলার খবরকে বলেন ফ্লাইওভারের উপরে আমাদের কোন টহল পুলিশ নেই।  মাঝেমধ্যে ক্রসিং এর সময় কোন কিছু সন্দেহজনক হলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুলিশ।

এ পর্যন্ত এই ফ্লাইওভারে ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।  এতে মারা গেছে ৭ জন। বেশিরভাগ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়।

ফ্লাইওভারের উপরে ট্রাফিক সিগনালের সতর্কীকরণ চিহ্নের রং উঠে গেছে। এগুলো দ্রুত সময়ে ঠিক করা জরুরী বলে মনে করছেন নগরবাসী।

সাধারণ যাতায়াতকারীরা মনে করছেন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি নেই বলেই ল্যাম্পপোস্ট গুলো ঠিক করছেন না।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ( বিদ্যুৎ ) ঝুলন কুমার দাশের সাথে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

  • ফখ|বিদ্যুৎ|চখ
এই বিভাগের আরও খবর