chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

জব্বারের বলীখেলার লোকজ মেলায় গ্রামীণ ছোঁয়া

চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার তিন দিনব্যাপী মেলা শুরু আজ বুধবার থেকে। এ উপলক্ষে লালদীঘি এলাকায় বসেছে নানা পণ্যের পসরা। স্টলে স্টলে ঘর সাজানোর নানা উপকরণসহ নানা তৈজসপত্র বিকিকিনিতে সরগরম পুরো এলাকা। এ লোকজ মেলায় গ্রামীণ জনপদের এমন কোন পণ্য নেই উঠেনি। মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে লোকজ পণ্য কিনতে।

  • মেলায় মাঠির তৈজসপত্র কিনছেন তরুণীরা। ছবি- ফয়সাল এলাহী। 

আজ সকালে মেলা প্রাঙ্গন লালদীঘি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় উত্তপ্ত রোদের মধ্যে তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষ আর মানুষ। নগরের কোতোয়ালি মোড়, সিনেমা প্যালেস মোড়, কে সি দে রোড়, বোস ব্রার্দাস মোড়, বক্সিরহাট, জেলখানা রোড়, আন্দরকিল্লা মোড়, কাটা পাহাড় মোড়সহ পুরো এলাকায় ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছে।

  • চট্টগ্রামের হাত পাখার কদর দেশ জুড়ে। ছবি-ফয়সাল এলাহী।

কে সি দে রোড়ে মাটির তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে বসেছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের আশেক আলী, সরফত মিয়া ও জাহেদ মির্জা। তাঁরা ফুলের টব, মূর্তি, হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, কাপ-প্লেট, ডেকচিসহ নানা আকর্ষণীয় পণ্য নিয়ে প্রতিবছর হাজির হচ্ছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলায়। তারা ৮ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে এসেছেন এবার। বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা তাঁদের।

  • রাজশাহীর মৃৎশিল্প-মাটির জিনিসপত্র জব্বারের বলিখেলার মেলায় স্থান করে নিয়েছে। ছবি-ফযসাল এলাহী 

সিনেমা প্যালেস মোড়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন করিম শেখ। তিনি রাজশাহীর মৃৎশিল্প-মাটির চায়ের কাপ, শখের হাঁড়ি নিয়ে এসেছেন। তিনি বললেন, মেলা চললে বিক্রি হয়। লাখ বিশেক টাকার পণ্যের সবই শেষ হয়ে যায়।

টাঙ্গাইলের বাঁশ-বেতের কারুপণ্য, সিলেটের বেতশিল্প, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনি কাঁথা, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুপণ্য, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির বেতের কারুশিল্প, দোহাজারির বাঁশের কারুশিল্প, লোহাগড়া ও বাঁশখালীর শোলাশিল্প নিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী ছুটে এসেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। লালদীঘির পাড়ে বসেছে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা। তাঁরা মনের আনন্দে এসব পণ্য বিক্রি করছেন। তাঁরা জানালেন প্রথমদিনে বেচাকেনা ভালো।

লালদীঘির উত্তর পাড় থেকে বক্সিরবিট পর্যন্ত মাটির তৈরি নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, লোহা ও কাঠের তৈরি নানা শোপিস, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস, মৌসুমি ফল, লোহার তৈরি হামান-দিস্তা, তাওয়া, খুন্তি, দা, ধামা, ছুরি, বঁটি ও কোদাল নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কাঠমিস্ত্রিরা বসেছেন কারুকাজ করা পিঠার ছাঁচ, রুটি বেলার পিঁড়ি-বেলন, রেহেল, আসন ইত্যাদি নিয়ে। তীব্র গরমে তাঁদের অবস্থা হাঁসফাঁস।

এ বছর মেলায় উঠেছে কারুশিল্পের কারুকাজ, হাতি, ঘোড়া, মমী পুতুলের বর্ণালী-বাহারি পণ্য, জামালপুরের তামা-কাঁসা-পিতলের শৌখিন সামগ্রী, সোনারগাঁয়ের জামদানি শিল্প, বগুড়ার লোকজ বাদ্যযন্ত্র, কক্সবাজারের শাঁখা ঝিনুক শিল্প, ঢাকার কাগজের শিল্প, রাজশাহীর মৃৎশিল্প-মাটির চায়ের কাপ, শখের হাঁড়ি, বাটিক শিল্প, খাদিশিল্প, মণিপুরী তাঁতশিল্প ও রংপুরের শতরঞ্জি। চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, পাটজাত কারুপণ্য, লোকজ অলংকার শিল্প, নাগর দোলা, বায়স্কোপ ও মিঠাই-মণ্ডার পসরা।

মেলা শুরুর প্রথমদিন পণ্য দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। সকালে এক দোকান থেকে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রাণিয়া সুলতানা। তিনি চট্টলার খবরকে বলেন, মেলায় গ্রামীণসহ দেশজপণ্য কি নেই। সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে এখানে। মনভরে অনেককিছু কিনতে পেরে খুশী আমি।

আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। ১৯০৯ সালে বকশীর হাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর যুবসমাজকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে বলীখেলার সূচনা করেছিলেন। এর পর থেকে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এই বিভাগের আরও খবর