chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে ইফতারে নবাবীয়ানা

চট্টগ্রামের লোকজনের কাছে ইফতারির মেনোটাই আলাদা। ভোজন রসিক হিসাবে খ্যাত চট্টগ্রামবাসীর রমজানের প্রত্যাহিক ইফতারে মেজবানী গোস্তসহ নানা পদের খাদ্য সংযোজিত থাকে। শ্রীলঙ্কান রোল,অ্যারাবিয়ান কাবাব,তার্কিজ শর্মা,বাস্কেট চিকেন,চিকেন সাসলিক,চিকেন মাসরুম, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, দইবড়া, বেলের জুস, ঢাকাইয়া হালিম, চুমকি হালুয়া, বিফ বিরিয়ানি, ফিরনি, মাটন হালিমসহ নানা পদের ইফতারি সামগ্রী বেচাকেনা চলছে মধ্যবিত্তের দোকান থেকে উচ্চ বিত্তের দোকানগুলোতে। চট্টগ্রামের ইফতারের আয়োজনে নবাবী হাওয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে সবখানে।

 

 

 

 

 

আগ্রাবাদ হোটেলে বাংলাদেশী খাবারের বাইরে দই জিরা পানি, হালিম আখরি, ল্যাম্বা শর্মা, চিকেন শর্মাসহ দেশি বিদেশী ৪৫ আইটেম ইফতারির আয়োজন করেছে। হোটেল অ্যামেেব্্রাসিয়ায় পার্সিয়ান হালিম, অ্যারাবিয়ান কাবাব, গোল্ডন ফ্্রাইড প্রন, দই বড়া, রেশমি জিলাপি, পাটিসাপটা, ছানামঞ্জুরি, লালমোহন, তার্কিজ শর্মাসহ বাহারি নবাবী খাবার ইফতারে পরিবেশন করা হচ্ছে। দাম একটু বেশি। তবে স্বাদে-মানে অনেক দারুন।

পবিত্র রমজান মাস ঘিরে বিশেষ বুফে ইফতার ও ডিনারের আয়োজন করেছে পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু। পরিবেশন করা হচ্ছে সুস্বাদু নানা রকম অ্যারাবিয়ান খাবার। বৈচিত্র্যময় খাবারের মধ্যে রয়েছে মাটন বুখারি, অ্যারাবিক মাটন/চিকেন কাবসা, পাস্তা আরাবিয়াটা, বিফ দাউদ বাশা সহ নানা রকমের আইটেম। এছাড়াও রয়েছে স্পেশাল স্যুপ, নানারকম সালাদ, খাসির হালিম, আফগানি কাবাবসহ আরও অনেক আয়োজন। নামকরা অ্যারাবিয়ান মিষ্টি যেমন কুনাফা, বাসবুসা, বালাশাম, বাকলাওয়া, মাহলাবিয়া এর মতো আরো নানাবিধ আয়োজন।

সিলভার স্পুনে ইফতারির আয়োজনে রযেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গোস্ত। এছাড়া বিরিয়ানি,হালিম, ম্যাংগো লাচ্ছিসহ রকমারি ইফতারের মেনো রয়েছে। ইফতারের পসরায় পিছিয়ে নেই হোটেল পিটস্টপে। তাদের আয়োজনের রয়েছে চিকেন সালসিক, চিকেন টোস্ট, চিকেন মাসরুম, বিফ হাফ মুন, ফ্্রাইড সিকেনসহ নানা আইটেম। জিইসির মোড়ের ওয়েল ফুডে-এ রয়েছে ৪০ আইটেমের ইফতারি। তারমধ্যে বিফ বিরিয়ানি, চিকেন শর্মা,চিকেন তন্দুরি, ছানার রোল,বিফ বিরিয়ানি, চিকেন পরাটা।

চট্টগ্রামের অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোর একটি উইন্ড অব চেঞ্জ। সেখানে বিফ তেহারি, তুর্কি বিরিয়ানি, স্টিম রাইট, লাচ্ছা পরোটা, চিকেন মাসালা, বিফ আলুগোস, ডাল বাটার ফ্রাইসহ কী নেই সেখানে।

 

এছাড়া নগরীর জামালখান, নিউমার্কেট, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বন্দর, জিইসির মোড়, মুরাদপুর, খুলশী এলাকায় অভিজাত রোস্তোরা ও হোটেলগুলোতে দেশি বিদেশী ইফতারির আইটেম বিক্রি হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন স্পর্টে নিম্ম বিত্ত ও মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে ইফতারির আইটেম বিক্রি হতে দেখা গেছে। চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রির মধ্যে বেশি ভাগ আইটেম তৎকালীন নবাবীয়ানা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আজ বিকালে নগরের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থায়ী দোকানগুলোর পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে ইফতারের আইটেম নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। বেচাকেনাও বেশ ভাল বলে জানালেন কাজীর দেউরী মোড়ের অস্থায়ী একটি দোকানের মালিক জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকার ইফতার সামগ্রি নিয়ে ২ ঘন্টা বিক্রির পর বেলা ৫ টায় সব বিক্রি হয়ে গেছে।

নবাবী ইফতারের পাশাপাশি পথের দ্বারে গড়ে উঠা ইফতারের দোকানগুলোতে বিকাল থেকে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। বাহারি নামে ইফতার সামগ্রি তৈরি করে দোকানিরা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

চখ/ফখ

এই বিভাগের আরও খবর