chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

রাঙামাটিতে গাছে গাছে লিচুর মুকুলের হাসি 

শীতের শেষে পাতা ঝরার গানে বিমুগ্ধ প্রকৃতি। চারিদিকে বইছে ফাগুনের হাওয়া। সেই হাওয়ায় থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে লিচু গাছের মুকুল। এমনই চিত্র দেখা গেলো রাঙামাটি জেলার দোখাইয়া পাড়া গ্রামে। প্রায় আড়াইশ একর জমিতে পৃথক মালিক লিচুর চাষ করেছে। গাছের প্রতি ঢগায় মুকুল আশায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

তীরময় চাকমা নামে এক লিচু চাষী বলেন, গত বছরের তুলনায় আমার বাগানে ভালো লিচুর মুকুল এসেছে। আমার চায়না- ২, চায়না- ৩ এবং দেশী লিছু রয়েছে। গত বছর চায়না – ২ প্রতি শত ২০০ টাকা, চায়না- ৩ প্রতি শত ৩৫০ টাকা বিক্রি করেছি। এবার মুকুল ভালো এসেছে। তবে মুকুল ভালো হলেই ভালো ফলন আসবে এমনটা নয়। পরিচর্যা ঠিকভাবে করতে হবে। কড়া রোদে লিচুর মুকুল ঝলসে যায়। তাই গাছে পানি দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বৃষ্টিপাতের দরকার। তাহলেই ফলন ভালো হয়।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ৮৭৬ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার ৩০ মেট্রিক টন, ২০১৪ সালে ১৪৯১ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৭৩ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ১৪৯৫ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন, ২০১৬ সালে ১৭৩০ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার তিন মেট্রিক টন, ২০১৭ সালে ১৭৪২ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন এবং ১৮৪২ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১১ মেট্রিক টন।

রাঙামাটি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান চট্টলার খবরকে বলেন, রাঙামাটিতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে প্রতি বছর নিচুর ভালো ফলন হয়।

গত বছরও প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন লিচুর ফলন হয়েছে। এবারও ১৫ হাজার মেট্রিক টন ফলনের আশা করছি। দামও পাবেন চাষিরা। তার জন্য চাষীদের লিচু গাছের পরিচর্যা বাড়াতে হবে। কিভাবে পরিচর্যা করা যায়- তা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আমাদের কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

  • নচ|ফখ|চখ
এই বিভাগের আরও খবর