chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

এসআরভি রেল স্টেশনের সেই ট্রাক টার্মিনাল উধাও!

চট্টলার খবরে সংবাদ প্রকাশের পর

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদরঘাট থানার বাংলাবাজার এলাকায় এসআরভি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পুরোটাই গত কয়েকদিন আগে ছিল অঘোষিত ট্রাক টার্মিনাল। এছাড়া অবৈধ দোকানদার ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া ছিলো। চট্টলার খবরে এ বিষয়ে “এসআরভি রেলওয়ে স্টেশন যেন ট্রাক টার্মিনা” শিরোনামে ২৮ জানুয়ারি একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর স্টেশনের কর্মযজ্ঞ চালু ও অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে রেলের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে। ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দখল হয়ে যাওয়া রেল স্টেশনটি।

আজ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ ট্রাক টার্মিনালটি নেই। দখল হয়ে যাওয়া জায়গাগুলো আবারও দখলমুক্ত হয়েছে। রেলের স্টাফরা সেখানে অফিসিয়াল কাজ করছে। বখাটের উৎপাত নেই।

পূর্বে প্রকাশিত নিউজে যা ছিল 

ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানের সারি সারি লাইন। রেল লাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ৩০টির বেশি গ্যারেজ। পোড়া তেলের ডিপো, স্ক্রাবের দোকান অসংখ্য স্থাপনা। জায়গাটি সংরক্ষণের একটি গেট থাকলে সেটিও ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। দূর থেকে প্রথমে কেউ দেখলে মনে হবে ট্রাক টার্মিনাল। আসলে এটি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাংলাবাজার এলাকায় এসআরভি রেলওয়ে স্টেশন। গুরুত্বপূর্ণ এ রেল স্টেশনটি গিলে খেয়ে ফেলেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। আর তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মাখন খাচ্ছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কয়েক সদস্য।


রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদরঘাট থানার বাংলাবাজার এলাকায় এসআরভি রেলওয়ে স্টেশন পুরোটাই এখন দখলদারদের কবলে। স্টেশনটি চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে মাদারবাড়ী মুখে রেললাইন হালিশহর সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডে যুক্ত রয়েছে। বন্দরের মালামাল, মালবাহী গাড়ি চলাচল করতো এই লাইন দিয়ে।

২৭ জানুয়ারি এসআরভি রেলওয়ে স্টেশনে পরিত্যক্ত গাড়ি ডাম্পিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন রেলের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার। রেললাইনের উপর গড়ে ওঠা স্ক্রাব ব্যবসায়ীদের মালামাল থাকায় আটকে যায় ট্রেন। পরে তা সরিয়ে ডাম্পিং করা হয়। এসময় রেল লাইনের উপরে থাকা অবৈধ মালামাল সরাতে গেলে অবৈধ দখলদারদের বাধার মুখে পড়ে রেল কর্মচারীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার, জেটিআই পোর্ট এনামুল হক, হেড টিএক্সার আজাদ, রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কানুঙ্গ আব্দুস সালাম।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গাগুলো দিনদিন দখল হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন যেতেই উঠছে অস্থায়ী স্থাপনা। এসব জায়গা দখল-বেদল নিয়ে প্রায় সময় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে চলে সংঘর্ষ ও সংঘাত। অভিযোগ রয়েছে, রেলের নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য নরেশের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে ট্রাক স্ট্যান্ড ও গ্যারেজগুলো। সেখান থেকে সে মোটা অংকের ঘুস পান।

পরিচয় গোপন করে কথা হয় স্টেশনে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে। এই আলাপকালে উঠে আসে এসআরভি স্টেশন কেন্দ্রিক আরএনবি সদস্য নরেশ চন্দ্র মজুমদার ও স্থানীয় নেতাদের মাসে লাখ টাকার চাঁদাবাজির চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্যারেজ মালিক আলমগীর বলেন, এ গ্যারেজগুলোতে ট্রাক কাভার্ড ভ্যান পার্কিং এবং মেরামত করার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। কিছু দেওয়া হয় স্থানীয় নেতা বা পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিকদের। আরএনবির হাবিলদার নরেশ চন্দ্র মজুমদারকে দিতে হয় ১৫শ টাকা করে। কেউ দেয় ২ হাজার আবার কেউ ৩ হাজার টাকা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে হাবিলদার নরেশ চন্দ্র মজুমদার।
তিনি বলেন, রেলস্টেশনের আশে-পাশে বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে। যেগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। সেখান থেকে আমি কিভাবে চাঁদা নিব। বিষয়টি হাস্যকর। তবে খবর নিয়ে জানা গেছে, রেল স্টেশনের আশে-পাশে গড়ে উঠা স্থাপনাগুলো রেলের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীরা। সেখানে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসআরবি স্টেশনে শুধু গ্যারেজে নয় সেখানে মোহাম্মদ কবির, মহিউদ্দিন, কামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন, রাজীব, জিসান, মাহবুদ, কালামের রয়েছে পোড়া তেলের দোকান।

সম্প্রতি স্থানীয় অধিবাসী রাজু আহমদ এসআরভি রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবৈধ দখল ও নানা অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ে রেলের উধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, এসআরভি স্টেশনকে ঘিরে আমাদের ভিন্ন পরিকল্পনাও রয়েছে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটির আশ-পাশ দখল হয়ে যাবে, তা হতে দেওয়া যাবে না।
রেলের ভূ-সম্পত্তির বিভাগের কানুঙ্গ সালাম বলেন, অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। সহসা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

চট্টলার খবরকে সাধুবাদ

চট্টলার খবরে সরেজমিনে রিপোর্ট প্রকাশের পর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে রেল কর্তৃপক্ষের উদ্দ্যেগ নেওয়ায় রেল স্টেশনটি দখলমুক্ত হয়েছে। এতে এলাকার লোকজন ও রেল সংশ্লিষ্ট লোকজন চট্টলার খবরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে ফোন করে এ রকম আরো নিউজ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • ফখ|ফয়সাল|চখ
এই বিভাগের আরও খবর