chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

অলিগলি চলি ফুড

সাইফুদ্দিন মুহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি: “মাটির আগুন,তেলে বেগুন,রোড সাইডের কত যে গুণ”এমন প্রবাদ বাক্য শুনিয়ে ৭০ বছরের বৃদ্ধ শাকিব আহমদ বাংলার শেষ নবাবের বিরিয়ানী বিক্রি করছে চাক্তাই শাহ আমানত সেতুর কাছে। একটি ভ্যান গাড়িতে করে তিনি বিক্রি করছে তা। গাড়িটা বাচ্চাদের প্র্যাম এর মতো দেখতে। তার চৌকোনা ডালা খুললেই দেখা যায় অন্দরে একটা ঘুরঘুট্টি আঁধার। সে আঁধারের মাঝ খানে বসানো এক ডেকচি ঘুঘনি। ঝকঝকে এ্যালোমিনিয়ামের কানা,তার মধ্যে ডিমের কুসুম রঙ্গা শুকনো ঘুঘনি।আর ওই চৌকো বাক্সের কোন থেকে হাত সাফাই করে বের করে আনছে বিরিয়ানী। নাম শেষ নবাবের পথ খাবার।

নগরীর চাক্তাই শাহ আমানত ব্রিজ এলাকার বিক্রি হওয়া এই বিরিয়ানীর মূল্য প্রতি বড় প্লেট মাত্র ৩০ টাকা। ছোট প্লেট ২০ টাকা। বিরিয়ানীতে দেয়া হচ্ছে ডিমের অংশ,মাংস এবং নানা রকম সালাত।

নগরীর নিউ মার্কেট মোড়,বহদ্দারহাট মোড়,আগ্রাবাদ ফকিরহাট, লাল দীঘির পাড়,কদমতলী, চকবাজার  এবং রেল ষ্টেশন এলাকায় রাস্তার পাশে এ ধরণের খাবার বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা কোন গুপ্ত বাহিনীর সদস্য কিনা তা জানি না। তবে সবাই এক ধরণের পোশাক পরে-লুঙ্গি,পাঞ্জাবী এবং মাথায় গামচা। সবাই সুর করে বিরিয়ানীর গুণকীর্তণ করে চট্টগ্রামের বাইরের ভাষায়। আর বিরিয়ানী  লাল কাপড়ে ঢাকা অদৃশ্য কোন গহর থেকে বের করে যে আনে। এরাও সালাতের প্রাচুর্যে বিশ্বাসী। কিন্তু তার বিতরণে বড় কৃপন।

 

ক্রেতারা যখন বলেন,আরও সালাত দাও,কি আর একটু লেবু। এঁরা কেমন জাদুকরের মতো হাত সাফাই করে সামান্য একটু সালাত দিয়েই-অনেক দিয়েছি এমন ভাব ধরে। বারবার চাওয়া যায় না। যতবার ঝুলির গভীরে হাত দেয় ষড়যন্ত্রের ভঙ্গিতে কেমন যেন গা ছমছক করে থাকে। কথা হয় নিউ মার্কেট এলাকায় রোড সাইডের বিরিয়ানী বিক্রেতা মেহের আলীর সাথে। তিনি জানালেন,বিরিয়ানীর প্লেটে সামান্য লাভ। তারপর বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখা। তাঁর বাবা ঢাকায় বিরিয়ানী বিক্রি করত। তিনি আরও জানান, রিকসা চালক,ঠেলাগাড়ি চালক, দিনমজুর,রাস্তার টোকাই,ভিক্ষুক এবং গার্মেন্টস কর্মীরা এর অন্যতম ক্রেতা। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই সখ করে খেয়ে নিচ্ছে বিরিয়ানী। বিরিয়ানী বিক্রির এলাকায় আশ-পাশ বিরিয়ানীর সুগন্ধে ভরে থাকে।

বিরিয়ানীর পাশাপাশি রোডসাইডের ভ্রম্যমান স্টলগুলোর বিরাট অংশ দখল করে আছে ফুচকা,আলুর চপ,ছোলা-মটর,ডালমুট,ছোলাচ্যাপটা,তেলেভাজা,ছোলাভাজা,বেগুনি,মোচার চপ আরও কত কি। তবে এসব দোকান দেখা মিলে চকবাজার চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজ কলেজের সামনে, চেরাগী পাহাড় মোড়, আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের সামনে,বহদ্দারহাট মোড়,খূলশী মহিলা কলেজ, এমইএস কলেজ মোড়,নিউ মার্কেট মোড়, লালদীঘির পাড়, কাজীর দেউরী,লালখান বাজার মোড়, সিইসি মোড়সহ নগরজুড়ে। ঝালমুড়ির দোকান  দেখা যায় রোডসাইডের জনবহুল এলাকার সবখানে।

রোডসাইডের এসব দোকানে দিনে শ’কয়েক টাকার বিক্রি,মাসান্তে বড়জোর পাঁচ ছয় হাজার টাকা। এদিকে অন্য সব খরচ ঊর্ধ্বমুখী,বাজার অগ্নিশর্মা,মাস্তানের কমপ্লিমেন্টরি আছে,পুলিশের চাঁদা আছে,ফাংশন-এ চাঁদা আছে,বৃষ্টিবাদল-অসুখবিসুখ আছে-তার পর পোড়া ? খুব বিষন্ন স্বরে নিজের দু:খের কথা বলছিলেন আরিফ আহমদ। তার দোকান বহদ্দারহাট মোড়ে। সেখানে দিনে বেচাবিক্রি বাড়লেও বিকালে তেমন বিক্রি হয় না।

এই বিভাগের আরও খবর